SRFTI কাণ্ডে আইপিএস কুনাল আগরওয়ালের নেতৃত্বে সিট গঠন রাজ্যের
সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI) ক্যাম্পাসে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত (ABGP)-এর অনুষ্ঠান ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্তে নামল রাজ্য। ২৭ সেপ্টেম্বরের গোলমালের কারণ এবং ঘটনার গতিপ্রকৃতি খতিয়ে দেখতে ছ’সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হল। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়ালের নেতৃত্বে এই দল ১ অক্টোবর প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেবে।
SIT-এ কুণাল আগরওয়াল ছাড়াও রয়েছেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট) স্পর্শা নিলাঙ্গি, রাজ্য পুলিশের সিআইডির এক ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট এবং কলকাতা পুলিশের তিন ইনস্পেক্টর কৌশিক ঘোষ, শৈল রায়, তুষারকান্তি ঘোষ ও হীরক দলপতি। তদন্তের প্রয়োজনে কলকাতা বা রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত কর্মী নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে SIT-কে।
তিন এফআইআর, তদন্তে SIT পঞ্চসায়র থানায় দায়ের হওয়া তিনটি এফআইআর-এর ভিত্তিতেই SIT গঠন করা হয়েছে বলে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি মামলা করেছে ABGP, একটি অভিযোগ করেছেন SRFTI-এর একাংশের পড়ুয়ারা এবং তৃতীয়টি পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দায়ের করেছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
২৭ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসের অডিটোরিয়ামে ABGP-এর কর্মসূচি চলাকালীন পড়ুয়াদের একাংশ সেখানে পৌঁছয়। অনুষ্ঠানে বাইরের লোকজনের উপস্থিতি এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আপত্তি তোলেন তাঁরা। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে গড়ায়। ঘটনায় বেশ কয়েকজন পড়ুয়া ও অন্য কয়েকজন আহত হন।
দু’পক্ষের অভিযোগ আলাদা পড়ুয়াদের অভিযোগ, ABGP-র কর্মসূচির অনুমতি তাঁদের না জানিয়েই দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের আরও দাবি, প্রতিবাদ করতে গেলে সংগঠনের সদস্যরা তাঁদের ‘মিলিট্যান্ট’ ও ‘বাংলাদেশি’ বলে কটূক্তি করেন এবং মারধর করা হয়। অন্যদিকে ABGP-র দাবি, কোনও প্ররোচনা ছাড়াই পড়ুয়ারা তাঁদের অনুষ্ঠান বানচাল করতে সেখানে ঢোকেন এবং ভারতমাতা, স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। সংগঠনের আরও অভিযোগ, তাঁদের সদস্যদের উপরেও হামলা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পরেও বেশ কিছুক্ষণ উত্তেজনা ছিল। পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে পড়ুয়াদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, তাঁদের অভিযোগ নেওয়ার বদলে নাম ও ঠিকানা নথিভুক্ত করা হচ্ছিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা এবং ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পুলিশের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভও হয়।

